মরশুমের শুরুতে ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের দলগুলোর দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। থান্ডারের মূল তারকা এসজিএ-এর (SGA) মিড-রেঞ্জ শট এবং রেফারিদের কাছ থেকে পাওয়া সুবিধা তাদের ফেভারিট বানিয়েছিল। অন্যদিকে স্পার্সের ভিক্টর ওয়েম্বানিয়ামা তার অবিশ্বাস্য উচ্চতা ও রক্ষণাত্মক দক্ষতার কারণে পুরো লিগে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, স্পার্স বনাম থান্ডারের লড়াইয়েই নির্ধারিত হবে কে এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে, কারণ ইস্টার্ন কনফারেন্সের দলগুলো তাদের তুলনায় পিছিয়ে আছে বলেই বিবেচনা করা হচ্ছিল।
ইস্টার্ন কনফারেন্সে ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্স তাদের ইনসাইড-আউটসাইড কম্বিনেশনের ওপর নির্ভরশীল ছিল, কিন্তু প্লে-অফে ডোনোভান মিচেলের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার অভাব তাদের সম্ভাবনাকে ম্লান করে দেয়। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্ক নিক্স যখন কার্ল-অ্যান্টনি টাউন্সকে দলে ভেড়ায়, তখন তাদের আক্রমণভাগের উন্নতি হলেও একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন ছিল। দলের মূল তারকা জেলেন ব্রানসন তার উচ্চতার কারণে রক্ষণে কতটা কার্যকর হবেন, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল যে, আইসোলেশন নির্ভর খেলার কারণে নিক্স খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং সেরা সাতটি খেলার (best-of-seven) সিরিজে তারা সুবিধা করতে পারবে না।
কিন্তু ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শুরু হওয়া প্লে-অফ এবং ৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ফাইনাল সিরিজ সব হিসেব নিকেশ পাল্টে দেয়। ল্যারি ও’ব্রায়েন চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি জয়ের এই লড়াইয়ে স্পার্সের মুখোমুখি হয় সেই তথাকথিত 'দুর্বল' নিউ ইয়র্ক নিক্স। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ফাইনালে নিক্স ৪-১ ব্যবধানে স্পার্সকে উড়িয়ে দেয়। প্রথম ম্যাচে ১০৫-৯৫ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ১০৫-১০৪ পয়েন্টের রোমাঞ্চকর জয়ের মাধ্যমে নিক্স সিরিজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। স্পার্স তৃতীয় ম্যাচে ১১৫-১১১ পয়েন্টে জিতলেও, নিক্স চতুর্থ ম্যাচে ১০৭-১০৬ এবং পঞ্চম ম্যাচে ৯৪-৯০ পয়েন্টে জিতে চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত করে।
যে জেলেন ব্রানসনের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা নিয়ে এতো সমালোচনা হয়েছিল, সেই ব্রানসনই ২০২৬ এনবিএ প্লে-অফ ফাইনালে 'ফাইনালস এমভিপি' (Finals MVP) নির্বাচিত হন। বোস্টন সেল্টিকসের এনবিএ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৮টি চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয়ের রেকর্ড থাকলেও, এই মরশুমে নিক্সের প্রত্যাবর্তনের গল্প ভক্তদের মনে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের দর্শকরা স্টার স্পোর্টস এবং অনলাইনে এনবিএ লিগ পাসের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক পালাবদল উপভোগ করেছেন, যা প্রমাণ করেছে বাস্কেটবলের মাঠে আগে থেকে কিছুই অনুমান করা সম্ভব নয়।