বার্সেলোনার আক্রমণভাগ এই মৌসুমে সম্পূর্ণ নতুন রূপ পেয়েছে। ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর দলে যোগ দিয়েছেন অ্যান্থনি গর্ডন এবং দানি ওলমো, যারা লামিনে ইয়ামালের সাথে মিলে ফলস-নাইন পজিশনে দারুণ কার্যকর হতে পারেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচগুলোতে তাদের কিছু তরুণ প্রতিভার ঝলক দেখা যায়। ৩ আগস্ট নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮২,১৫৪ জন দর্শকের সামনে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে পরাজিত করে, যেখানে পাউ ভিক্টর দুর্দান্ত দুটি গোল করেন। এর আগে ৩০ জুলাই অরল্যান্ডোর ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ২-২ ড্র করার পর পেনাল্টিতে ৪-১ ব্যবধানে জয়ী হয় তারা।

তবে প্রাক-মৌসুমে তাদের কিছু দুর্বলতাও প্রকাশ পেয়েছে। ৬ আগস্ট বাল্টিমোরের এমঅ্যান্ডটি ব্যাংক স্টেডিয়ামে এসি মিলানের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় বার্সেলোনা। এরপর ১২ আগস্ট নিজেদের মাঠে এস্তাদি অলিম্পিক লুইস কোম্পানিসে ৫৯তম জোয়ান গ্যাম্পার ট্রফিতে এএস মোনাকোর কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয় তারা। মোনাকোর হয়ে গোল করেন লামিন কামারা, ব্রিল এমবোলো এবং ক্রিশ্চিয়ান মাভিসা। তা সত্ত্বেও, ডিফেন্সে রদ্রির মতো বিশ্বমানের তারকার সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি তাদের আসন্ন মৌসুমে শিরোপা জয়ের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে।

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ তাদের রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করতে মার্ক কুকুরেয়া, আর্নল্ড এবং ডামফ্রিসের মতো খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছে। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সাথে নতুন যুক্ত হয়েছেন ইয়ান দিওমান্দে, যা এমবাপ্পে এবং বেলিংহামের জন্য মাঠে আরও জায়গা তৈরি করবে। তবে, বার্নার্ডো সিলভার মতো মিডফিল্ডার দলে এলেও, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। প্রাক-মৌসুম ম্যাচে এর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ৩১ জুলাই শিকাগোর সোলজার ফিল্ডে এসি মিলানের কাছে ১-০ গোলে হারের পর, বার্সেলোনার বিপক্ষেও হারে তারা, যদিও নিকো পাস তাদের হয়ে একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করেন। অবশেষে ৬ আগস্ট নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটে ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা জয়ে ফেরে।

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদও নিজেদের দল গোছাতে পিছিয়ে নেই। তারা পিএসজি থেকে লি কাং-ইন এবং পর্তুগিজ লিগ থেকে হুলমান্ডকে দলে টেনে মাঝমাঠে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছে। তবে, রিয়াল মাদ্রিদ বা বার্সেলোনার মতো বিশ্বমানের স্কোয়াডের তুলনায় তারা কিছুটা পিছিয়ে। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে প্রিমিয়ার লিগের বড় দলগুলোর বিপক্ষে তাদের সংগ্রাম প্রমাণ করে যে, লিগের শীর্ষ লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে তাদের আরও কৌশলী হতে হবে।